Monday, December 19, 2011
উড়তে জানা মাছ
পাখি ওড়ে_ এ তথ্যের মধ্যে কোনো নতুনত্ব নেই। কিন্তু যদি বলি, মাছ ওড়ে? সব পাখি যেমন ওড়ে না, তেমনি সব মাছও ওড়ে না। যে মাছটি উড়তে পারে তার নাম ফ্লাইং ফিশ বা উড়ন্ত মাছ। মোটামুটি সব সাগর-মহাসাগরে উড়ন্ত মাছের বিস্তৃতি। উড়ন্ত মাছ লম্বায় ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়। উড়তে গেলে ডানার প্রয়োজন। উড়ন্ত মাছের রয়েছে লম্বা পাখনা। বুকের দুই পাশে দুটি পাখনা থাকে, যা ওদের উড়তে সাহায্য করে। তবে প্রজাতিভেদে পাখনা দুই জোড়াও হতে পারে। শুধু পাখনাই নয়, উড়ন্ত মাছের লেজও তাদের উড়তে সাহায্য করে। সাগরের তলদেশ থেকে উপরে উঠে আসার সময় এরা লেজকে সেকেন্ডে প্রায় ৭০ বার নাড়ায়। লেজের আরেকটি কাজ হলো গতিপথ পরিবর্তন। লেজ পানিতে ছুঁয়ে ছুঁয়ে এরা গতিপথ পরিবর্তন করে। এখন কথা হলো, এরা কেন ওড়ে? এদের ওড়ার কারণ হলো, শিকারির থাবা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। তবে সবসময়ই তা নয়। এরা মূলত প্লাংকটন জাতীয় খাবার খেয়ে বেঁচে থাকে। পানির উপরে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় উঠতে পারে। এতে অনেক সময় জাহাজের ডেকে এদের পাওয়া যায়। একটানা উড়তে পারে ৪০০ মিটার পর্যন্ত। আর ওড়ার গতি ঘণ্টায় ৬০-৭০ কিলোমিটার। ফ্লাইং ফিশের রয়েছে আলোর প্রতি ভীষণ টান। আলোর আকর্ষণে এরা ছুটে যায়। ফ্লাইং ফিশ খেতে সুস্বাদু। বার্বাডোজে এদের কদর সবচেয়ে বেশি। বার্বাডোজের জাতীয় খাদ্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হলো উড়ন্ত মাছ। তাই সে দেশের সরকার উড়ন্ত মাছকে তাদের জাতীয় মাছ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, উড়ন্ত মাছ বার্বাডোজের সংস্কৃতির মধ্যেও ঢুকে গেছে। বার্বাডোজের মুদ্রা, কলম, চিত্রশিল্পসহ পাসপোর্টেও রয়েছে উড়ন্ত মাছের ছবি। বার্বাডোজের পর্যটন সংস্থার লোগোতেও আছে এ মাছের ছাপ। তাই বার্বাডোজ 'উড়ন্ত মাছের দেশ' বলে খ্যাত। * শাহেদুজ্জামান লিংকন
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment