Wednesday, December 21, 2011

'হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ' : প্রচণ্ড খরায় স্বস্তির বর্ষণ

প্রচণ্ড খরায় দেশীয় চলচ্চিত্রের অবস্থা যখন নাকাল তখনই স্বস্তির বর্ষণ হয়ে এলো অনন্তের 'হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ'। পরিচালক, কাহিনীকার ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে বাংলা ছবির কারিগর গাজী মাজহারুল আনোয়ার আবারও মুন্সিয়ানার পরিচয় দিলেন। এর প্রমাণ মুক্তির প্রথম দিন থেকে প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে উপচেপড়া দর্শক। এ চলচ্চিত্রের মুখ্য চরিত্রে আলমগীর তার অভিনয়ের অনবদ্যতা ধরে রাখলেন। অন্য মুখ্য চরিত্রে অভিনেত্রী দিতি যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অভিনয় দেখাতে পারেননি। নৃত্য, গীত ও সম্পাদনা কিভাবে নির্মাতার দৃষ্টি এড়িয়ে দুর্বলতার পরিচয় দিল তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। লোকেশন নির্বাচন ভালো। তবে দেশে-বিদেশে চিত্রায়ণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে আরও দৃষ্টিনন্দন হতো। চরিত্র অনুযায়ী নায়করাজ রাজ্জাক, অনন্ত, বর্ষা এবং কাবিলার অভিনয় উতরে গেছে। 'মাটি মাটি করে সারা জীবনটাই তো নষ্ট করে দিলে। তোমার কবরের জন্য কতটুকু মাটি দরকার'_ ছবির শেষ দৃশ্যে দিতির মুখে আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে বলা এই সংলাপটি পুরো ছবির সার্থকতা বয়ে এনেছে। পৃথিবীতে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবনের কথা এই সংলাপে প্রাণ পেয়েছে। হলভর্তি দর্শকের মুহুর্মুহু করতালি 'হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ' ছবির সার্বিক সার্থকতা তুলে ধরেছে। দেশীয় চলচ্চিত্রশিল্পের ক্রান্তিলগ্নে এম এ জলিল অনন্তের এ ধরনের সাহসী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

No comments:

Post a Comment