Thursday, December 8, 2011
new satelite
কেপলার ২২-বি। যেন পৃথিবীর যমজ ভাই। বলতে গেলে পৃথিবীর বাইরে আরেকটি পৃথিবী। মিল এতটাই যেন একে অন্যের প্রতিচ্ছবি। সৌরজগতের বাইরে আবিষ্কৃত এ নতুন গ্রহকে ঘিরে গোটা বিশ্বে হৈচৈ পড়ে গেছে। অনেকের মতে এটি হতে পারে মানুষের 'ফিউচার হোম'। মঙ্গলবার মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আবিষ্কৃত এই গ্রহের নাম দেওয়া হয়েছে কেপলার ২২-বি। পৃথিবী থেকে এর অবস্থান ছয়শ আলোকবর্ষ দূরে। আকৃতিতে পৃথিবীর আড়াই গুণ। এ গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বও মিলতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। এমন ধারণার পিছনে অনেক কারণও আছে। কেপলার ২২-বি'র তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি, যা জীবনধারণের পক্ষে রীতিমতো উপযুক্ত। এ ছাড়া পৃথিবী যেমন সূর্যের চারদিকে ঘুরছে ঠিক তেমনি একটা নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরে চলছে এ গ্রহটি। এর আগেও একাধিক বার ব্রহ্মাণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক নতুন গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে। তাতে প্রাণ থাকার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এবার রীতিমতো আটঘাট নেমেছে নাসা। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই গ্রহটির প্রথম অস্তিত্ব টের পায় অতি আধুনিক কেপলার দূরবীক্ষণ। আর কেপলারের কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দিতেই গ্রহটির নাম রাখা হয়েছে কেপলার ২২-বি। ২০০৯-এর মার্চে প্রায় ৬০ কোটি ডলারের একটি বিশেষ উপগ্রহের সাহায্যে কেপলারকে মহাকাশে পাঠিয়েছিলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর বাইরে মহাকাশে প্রাণের সন্ধান করা। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত 'হ্যাবিটেক্স জোনে' যে সব গ্রহ বিভিন্ন নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে তাদেরকে নজরে রাখা এবং গ্রহগুলো সম্পর্কে যা তথ্য পাওয়া যায় তা পৃথিবীতে পাঠানোর দায়িত্ব কেপলারের। নাসার দাবি, ২০০৯-এর মার্চ থেকে এখনো পর্যন্ত ১০৯৪টি নতুন গ্রহের সন্ধান দিয়েছে কেপলার। এদের মধ্যে অন্তত ৪৮টি গ্রহে প্রাণ থাকার পরিবেশ আছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। তা হলে সদ্য আবিষ্কৃত কেপলার ২২-বি নিয়ে এত উৎসাহ কেন? নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহটির অবস্থান এবং বাইরের পৃষ্ঠের উষ্ণতা কেপলার ২২-বি কে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে যে দূরত্ব অনেকটা সে রকমই দূরত্ব রয়েছে কেপলার ২২-বি এবং একটি নক্ষত্রের মাঝে। সেই নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরছে কেপলার ২২-বি। নক্ষত্রটির চারদিকে একপাক ঘুরতে গ্রহটির সময় লাগে ২৯০ দিন। আর সূর্যের চারদিকে একপাক ঘুরতে পৃথিবীর সময় লাগে ৩৬৫ দিন। এর বাইরের পৃষ্ঠের উষ্ণতা আনুমানিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭২ ডিগ্রি ফারেনহাইট! পৃথিবীর সঙ্গে এত সাদৃশ্য থাকায় শুধু পানি বা বায়ুমণ্ডল নয় সেই সঙ্গে গ্রহটিতে প্রাণ থাকারও সম্ভাবনা নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বিজ্ঞানীমহল। তবে পৃথিবী থেকে আড়াই গুণ বড় কেপলার ২২-বি গ্রহটি কঠিন, গ্যাসীয় না তরল তা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত নাসার বিজ্ঞানীরা। 'সান হোস স্টেট ইউনিভার্সিটির' জ্যোতির্বিজ্ঞানী নাটালি বাতাল্লা নাসার এই 'কেপলার' অভিযানের অন্যতম গবেষক। তিনি জানিয়েছেন, আমরা এক নতুন পৃথিবী খোঁজার পথে অনেক দূর এগিয়েছি। কিন্তু আরও অনেক পথ যেতে হবে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment