সব প্রাণী একরকম বাঁচে না। কোনোটি বেশিদিন বাঁচে কোনোটি অল্প দিন। বাঁচা-মরার ব্যাপারটা বুড়িয়ে যাওয়ার ওপর নির্ভর করে। বুড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটার দুটো ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। তা হলো_ বুড়িয়ে যাওয়ার গতি ও বুড়িয়ে যাওয়ার আকার।
কিছু প্রাণী যে অল্পদিন বাঁচে এবং অন্যরা দীর্ঘদিন বাঁচে এটাই হলো বুড়িয়ে যাওয়ার গতি। স্বল্পায়ু প্রাণীদের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুত। অন্যদিকে দীর্ঘায়ু প্রাণীদের বেলায় সেই গতি মন্থর। গতি মানেই হলো জীবনের ঘড়ি কিভাবে চলছে আস্তে না দ্রুত। মানুষের ক্ষেত্রে জীবনের ঘড়ি ধীরগতিতে চলে। আর টুনটুনির মতো ক্ষুদে গায়ক পাখির জীবনের ঘড়ি চলে দ্রুতগতিতে।
আবার অন্য বৈশিষ্ট্যটি হলো বুড়িয়ে যাওয়ার আকার বা ধরন। সেটা বলতে বোঝাবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হার বা মৃত্যুর ঝুঁকি কতখানি বদলে যায়। বুড়িয়ে যাওয়ার আকার পরিমাপ করার একটা উপায় হলো- বয়স বাড়ার গুণনীয়ককে বিবেচনায় নেওয়া। যেমন_ চড়ুই পাখির বুড়িয়ে যাওয়ার গুণনীয়ক হলো ২। তার অর্থ প্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় পাখিটির মৃত্যু হার বা মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যায়। অন্যদিকে আধুনিক মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার গুণনীয়ক ২ হাজারেরও বেশি।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জার্মানির ম্যাঙ্গ প্লাট ইনস্টিটিউটের গবেষক ড. এ্যানি বাউডিশ্চ বলেছেন যে, ১৫ বছর বয়সে সুইডেনের ১ লাখ বালিকার মধ্যে মাত্র ২ জন মারা যায়। কিন্তু ১১০ বছর বয়সী প্রতি দুজন মহিলার একজন মারা যাবে। প্রাপ্ত বয়স্ক জীবনের শুরুতে এবং শেষে মৃত্যু হারের এই বিশাল পার্থক্যের অর্থ হচ্ছে মানুষের বেলায় বুড়িয়ে যাওয়ার আকারটা দুরূহভাবে খাড়া বা ঢালু। অন্যদিকে চড়ুইয়ের মতো প্রাণীর বেলায় তা অগভীর বা চেটাল। আবার কোনো কোনো প্রাণীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস পায়। এরা যত বেশি বুড়ো হবে মৃত্যুর ঝুঁকি তত কম হবে। মরু কচ্ছপ, এলিগেটর বা কুমীরের বেলায় এ কথা প্রযোজ্য।
ড. বাউডিশ্চের মতে, চড়ুই পাখির সঙ্গে তুলনা করলে মানুষের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি মন্থর এবং চড়ুইটির দ্রুত। কাজেই জীবনের দৈর্ঘ্যের হিসাবে মানুষের অবস্থান অনেক উপরে। আবার মৃত্যু হারের ওপর বয়োবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিলে চড়ুই পাখিকেই উপরে স্থান দিতে হয়। তিনি মনে করেন কিভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বুড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি নির্ধারিত হয়েছে তা অনুধাবনের জন্য আমাদের বিভিন্ন প্রজাতিকে পরস্পরের সঙ্গে তুলনা করে দেখতে হবে। তাহলে দেখা যাবে, কোন প্রাণী দ্রুত বাঁচে ও অল্প বয়সে মারা যায়। কোন প্রাণী ধীরে বাঁচে ও বেশি বয়সে মারা যায়। এমনও প্রাণী আছে যারা বেশ দ্রুত বাঁচে কিন্তু মরে বুড়ো বয়সে। শেষেরটির দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে তিনি এক ধরনের পাহাড়ি মেষের কথা উল্লেখ করেছেন।
No comments:
Post a Comment